Sad Love Story
নিরুদ্দেশের পর
পলি করিমের নিরুদ্দেশের পর থেকে তার কোনাে খবর জানে না! ভালোবাসার গল্প
তাই তাকে আজ এখানে দেখে চমকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল। আসল প্রেম কাহিনী
করিম বহুদিন তার মানস প্রতিমাকে এত কাছ থেকে দেখে নি । জিজ্ঞেস করল, কেমন আছ ?
ভার্সিটিতে পড়ছে
পলি তখন করিমের দিকে তাকিয়ে ভাবছিল, করিম তা হলে ভার্সিটিতে পড়ছে। Love History
আগের সেই রােগা পেঁচকা হাড়গীলে করিম এখন বেশ সুঠাম দেহের অধিকারী।
বেগুনের মতাে জ্বলে উঠল
গায়েও দামী প্যান্ট শার্ট। তাকে ভালাে মন্দ খোজ নিতে দেখে তেলে বেগুনের মতাে জ্বলে উঠল। বাস্তব কাহিনী
কড়া কিছু বলতে গিয়ে সামলে নিল। আমিনের সামনে কোনাে সিন ক্রিয়েট করতে চাইল না।
সংযত হয়ে বললো, সে কথা জেনে তােমার লাভ নেই। তারপর আমিনকে বলল, চল, দেরি হয়ে যাচ্ছে।
ভূমিহীন
আমিন জিজ্ঞেস করল, ছেলেটা কে ? পলি বলল, আমাদের গ্রামের এক ভূমিহীন কৃষকের ছেলে।
কারাে দয়ায় হয়তাে লেখাপড়া করছে।
উপহার
আমিন করিমকে একা বিদ্রুপের হাসি উপহার দিয়ে পলির একটা হাত দুলাতে দুলাতে চলে গেল।
করিম মৃদু হেসে লাইব্রেরীতে ঢুকল। এরপর থেকে সে আর পলির কাছাকাছি যায় না, দূর থেকে দেখে।
মােটামুটি স্বচ্ছল
আমিন বড়লােক না হলেও মােটামুটি স্বচ্ছল পরিবারের ছেলে। তার বাবার ছােট খাট ব্যবসা।
ফ্লাট
বিভিন্ন অফিসে মাল সাপ্লাই দেন। ব্যবসা থেকে যা ইনকাম করেন এবং দোতলা বাড়ির উপরের দু'টো ফ্লাট থেকে যা ভাড়া পান,
তাতে সংসারে কোনাে ভাবে চলে অভাব নেই । আমিনের সঙ্গে পলির পরিচয় ক্লাসমেট হিসাবে।
আমিন সু-স্বাস্থ্যের অধিকারী ।
নিয়মিত ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ করে। দেখতেও সুন্দর।
পােষাক পরিচ্ছদ কেতা দুরস্ত। বড় বড় কথা বলে ফাট দেখায়।
ওস্তাদ
তার সবচেয়ে বড় গুণ সে মেয়েদেরকে কনভিন্স করতে ওস্তাদ।
পলি সুন্দরী, স্বাস্থ্যবতী, পড়াশুনায় ভালাে, তার ওপর।
বড়লােকের মেয়ে।
পরিচয়ের পর তাই আমিন তার সঙ্গে প্রেমের খেলা খেলছে।
পলির শেষ বর্ষ চলছে।
ভার্সিটি বন্ধ
আজ ভার্সিটি বন্ধ। আমিনের কথামত পলি বেলা দেড়টার দিকে রােকেয়া হলের গেটের বাইরে এসে আমিনকে দেখতে না পেয়ে অপেক্ষা করতে লাগল ।
আমিন তাকে আজ চাইনিজ খাওয়াবে। হঠাৎ দেখতে পেল, গেটের পূর্বদিকে অল্প দূরে ফেরিওয়ালার কাছ থেকে করিম বাদাম কিনছে।
বাদাম
করিম দু'ঠোঙা বাদাম কিনে পলির কাছে এগিয়ে এসে একটা ঠোঙা তার দিকে বাড়িয়ে ধরে বলল, নাও, বাদাম খাও।
লাইব্রেরীর বারান্দায় ঘটনার পর থেকে প্রায় দেড় বছর হতে চলল পলি করিমকে আর তার কাছে আসতে দেখে নি।
মাঝে মাঝে তাকে দূর থেকে লক্ষ্য করতে দেখেছে। তাকে না দেখার ভান করে সরে গেছে।
ইউনিভার্সিটিতে পড়ছে
সে সময় ভেবেছে, যার বাপ। কামলাগিরী করে খায়, সে কিনা ভাগ্যগুণে ইউনিভার্সিটিতে পড়ছে বলে নিজেকে কি ভাবে কি জানি ?
যদি কোনােদিন আবার সামনে এসে কথা বলার চেষ্টা করে।
তা হলে বাছাধনকে টের পাইয়ে ছাড়ব করিমকে দেখেলেই পলির পা থেকে মাথা পর্যন্ত।
ঘূণায় রি রি করে উঠে। এখন তাকে বাদাম দিতে দেখে রাগে বারুদের মতাে জ্বলে উঠল।
নির্লজ্জ
বাদামের ঠোঙাটা নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিয়ে বলল, তােমার মতাে নির্লজ্জ বেহায়া ছেলে জীবনে দেখি নি।
আত্মসম্মান
তােমার কি আত্মসম্মান জ্ঞান বলতে কিছু নেই ?
ঘৃণা
তুমি তাে জান, আমি তােমাকে ইতর প্রাণীর চেয়ে বেশি ঘৃণা করি।
তবু তুমি আমার পিছনে ঘুরাে কেন ? তুমি কি নিজের পরিচয় জান না ?
কোন সাহসে তুমি আমার পিছনে লেগেছে ?
ভার্সিটিতে লেখাপড়া করছ, কমনসেন্স বলতে তােমর এককণাও নেই।
চলে যাও, আর কোনাে দিন আমার সামনে আসবে না।
পলি একটা ছেলেকে রাগারাগি করছে দেখে অনেক ছেলেমেয়ে দাড়িয়ে গেছে।
কিছুক্ষণ আগে আমিন এসে তার কথাগুলাে শুনেছে। পলি তাকে চলে যেতে বলা সত্ত্বেও ছেলেটাকে দাঁড়িয়ে বাদাম খেতে দেখে আমিন এগিয়ে এসে বলল,
কি ব্যাপার ?
তােমাদের গ্রামের সেই ছেলেটা না ? ওকি তােমাকে অপমান করেছে ?
পলি বলল, হ্যা। আমার রূপে মুগ্ধ হয়ে আমাকে বাদাম খাওয়াতে চাচ্ছে।
আমিন তাই নাকি বলে করিমের সামনে এসে বলল, এই যে ব্রাদার,
সুন্দরী মেয়ে
সুন্দরী মেয়ে দেখলেই বুঝি জ্বিব দিয়ে লালা পড়ে ?
ভালই ভালই কেটে পড়ন, নচেৎ কপালে খারাবি আছে। যান চলে যান।
আর কোনােদিন কোনাে সুন্দরী মেয়ের পিছনে লাগবেন । ভার্সিটিতে পড়ছেন অথচ ছােটলােকি ব্যবহার ত্যাগ করতে পারলেন না।
করিম তার কথায় কান না দিয়ে নির্দিধায় বাদাম খেতে লাগল।
তাই দেখে আমিনের গা জ্বলে উঠল। বলল, কি হল, কথা বুঝি কানে যাচ্ছে না ?
সৃষ্টিকর্তা
করিম বলল, সৃষ্টিকর্তা দুটো কান যখন শােনার জন্য দিয়েছেন তখন নিশ্চয় সবকিছু গেছে।
তবে এখান থেকে চলে যেতে বলার অধিকার শুধু আপনার একার নয়, সবাইয়ের মতাে আমারও আছে।
এ জায়গাটাতাে কারাের নিজস্ব নয়।
আমিন রাগ সহ্য করতে পারল না, তার মুখে একটা ঘুসি মারতে গেল।
করিমের মুখে ঘুসিটা লাগার আগে সে খপ করে তার হাতটা ধরে পিছন দিকে মুচড়ে ধরে রেখে বলল,
ঢিল ছুড়লে পাটকেল খেতে হয়। তারপর হাতটা ছেড়ে দিয়ে বলল, গায়ে শুধু শক্তি থাকলে হয় না,
সেগুলাের প্রয়ােগ করার কৌশলও জানতে হয়। এবার আপনি বরং যান পলিকে নিয়ে কোথায় যাবেন ।
বেচারি অনেকক্ষণ ধরে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।
মারামারি
আমিনের গায়ে প্রচুর শক্তি। কেউ সহসা তার সঙ্গে মারামারি করা তাে দূরের কথা, কথা কাটাকাটি করতে পর্যন্ত সাহস পায় না।
সেই আমিন এতগুলাে ছেলেমেয়ে ও পলির সামনে একটা একহারা ছেলের কাছে হেরে গিয়ে অপমানে ও রাগে লাল হয়ে গেল।
ফুসতে ফুসতে বলল, আমিও দেখে নেব।
করিম মৃদু হেসে বলল, নিজে একা দেখে বুঝি সাধ মিটল না ?
দলবল নিয়ে দেখতে চান ? তাতেও সুবিধে করতে পারবেন না।
ভার্সিটির ছাত্র
ওরকম বদ খেয়াল ছেড়ে দিন। মনে রাখবেন আমিও ভার্সিটির ছাত্র।
যারা প্রথম থেকে ঘটনাটা দেখেছে, তারা করিমের দোষ মনে করে আমিনের হয়ে কিছু বলবে বলে ভেবেছিল ।
কিন্তু তারা সাইফুলের কাণ্ড দেখে ও তার কথা শুনে ভয় পেয়ে চুপ করে রইলো।.....
ভূমিকা : লিখতে গিয়ে যদি ভূল হয়ে থাকে তাহলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
এবং কোন সাজেশন এর প্রয়োজন হলে, আমাকে ইমেইল এর মধ্যেমে জানিয়ে দিবেন!
নতুন নতুন কাহিনী পেতে প্রতিদিন এই ওয়েবসাইট ভিজিট করুন,
সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ