বাস্তব জীবনের কষ্টের কাহিনী
বিরহের কাহিনী
আমিন আনন্দে আটখানা হয়ে বললো, সে ব্যাপারে তুমি যা বলবে তাই হবে। আসল প্রেম কাহিনী
তা হলে আগামীকাল আমি বেলা দশটার দিকে আসবো।
গতকাল সামার ভ্যাকেসানের ছুটি পড়েছে। আগামীকাল পলি দেশে যাওয়ার মনস্থ করেছিল। Love Story
আমিনের কথা শুনে বললো, বেশ তাই এসো।
সুপারিন্টেন্টে
পরের দিন পলি সুপারিন্টেন্টেকে দেশে যাওয়ার কথা বলে হল থেকে বেরিয়ে এলো।
কাজী অফিস
আমিন আগের থেকে গেটের বাইরে অপেক্ষা করছিল। তাকে সঙ্গে করে কোর্টে না গিয়ে কাজী অফিসে গেল। Romantic Love Story
কোর্টে
পলি বলল, কোর্টে যাবে না ? আমিন বলল, কোর্টে অনেক ঝামেলা।
কোর্ট আর কাজী অফিসের মধ্যে পার্থক্য নেই,
বিয়ের কাজ
সেদিন কাজী অফিস থেকে কাবিন করে একদম বিয়ের কাজ সেরে আমিন পলিকে নিয়ে বাসায় এল। ভালোবাসার গল্প
সাহায্য
আমিন আগেই মাকে বুঝিয়ে বলেছে, পলিকে-বিয়ে করলে তার বাবার কাছ থেকে ব্যবসার ব্যাপারে অনেক সাহায্য পাওয়া যাবে।
পুত্রবধু
তাই শায়লা বেগম পুত্রবধুকে সাদরে গ্রহণ করে ঘরে তুললেন।
আমিনের বাসায় এসে পলির মন খারাপ হয়ে গেল। সে ভেবেছিল,
আমিনের বাবা যখন ব্যবসায়ী তখন তাদের বাড়ি ও ঘরের আসবাবপত্র নিশ্চয় খুব উন্নত ধরণের হবে।
আসবাবপত্র
কিন্তু দোতলা চারকামরা করে আটকামরা বাড়ি ও নিম্নমানের আসবাবপত্র দেখে তার মন খুঁৎ খুঁৎ করতে লাগল ।
কিন্তু বাইরে তা প্রকাশ করল না। ভাগ্যে যা ছিল তাই হয়েছে মনে করে সব কিছু মেনে নেয়ার চেষ্টা করল।
আনন্দ ফুর্তিতে
দিন পনের বেশ আনন্দ ফুর্তিতে কেটে গেল। একদিন আমিন পলিকে বলল,
তােমার এবার দেশে যাওয়া উচিত। কারণ প্রতি বছর সামার ভ্যাকেসানে তুমি বাড়ি যাও। এবারে না গেলে বাড়ির সবাই চিন্তা করবে।
পলি বলল, তুমি ঠিক কথা বলেছ । আমিও তােমাকে কথাটা বলব ভাবছিলাম ।
ব্যবস্তা
তা হলে কালকেই তােমার যাওয়ার ব্যবস্তা করে দিচ্ছি। একটা কথা বলি শােন,
তুমি গিয়ে মাকে আমাদের বিয়ের ব্যাপারটা জানিয়ে বাবাকে ম্যানেজ করতে বলবে।
ফ্যাইন্যাল পরীক্ষা
পলি আতংকিত হয়ে বলল, না না, তা এখন সম্বব নয়। তােমাকে তাে আগেই বলেছি ফ্যাইন্যাল পরীক্ষার পর জানাব।
কন্ট্যাক্ট
সে কথা আমার মনে আছে। তবে কি জান, একটা কন্ট্যাক্ট ধরার জন্যে কিছু টাকার দরকার।
কন্ট্যাক্ট ফেল করলে যেমন আমার বহু টাকা লস হবে, সাকসেসফুল।
হলে তেমনি প্রচুর লাভ হবে। এর পিছনে আমি বিশ-ত্রিশ হাজার টাকা অলরেডী খরচ করে ফেলেছি।
বলছিলাম কি, ওনাদের দোয়া নেয়ার পর তুমি যদি বাবাকে বলে লাখ খানেক টাকা ম্যানেজ করতে পারতে,
তা হলে ব্যবসাতে তাড়াতাড়ি উন্নতি করতে পারতাম। তা ছাড়া এটাতে আমার ফার্মের ইজ্জৎও জড়িত আছে।
পলি বললো, ছি-ছি, এ কথা বলতে তােমার মুখে আটকাল না ?
কোন মুখ নিয়ে বাবার কাছে টাকা চাইবো ?
এমনিতেই যা ঘটে গেল, সেটা জেনে কি করবেন তার ঠিক নেই।
আমিন বেশ গম্ভীর হয়ে বলল, তুমি নিজের সম্মান দেখছ, স্বামীর দিকটা চিন্তা করে দেখবে না ?
এত লেখাপড়া করলে, বুদ্ধি করে সবদিক ম্যানেজ করার চেষ্টা কর।
অসাধ্য সাধন
মেয়েরা স্বামীর জন্য কত অসাধ্য সাধন করে। আর তুমি এই সামান্য কাজটা করতে পারবে না ?
পলির মনের ভিতর থেকে কে যেন বার বার বলছে, পলি তুই খুব ভুল করেছিস।
আজকাল মানুষ চেনা খুব কঠিন। এখন আর ভেবে কিছু করতে পারবি না। ভাগ্যকে মেনে নে।
চোখে পানি এসে যেতে আঁচলে মুছতে মুছতে বলল, ঠিক আছে, আমি চেষ্টা করব।
পলি যখন তাদের দেশের বাড়িতে গিয়ে পৌছাল তখন সন্ধ্যে পার হয়ে গেছে। সে বাবা-মাকে কদমবুসি করল।
হামিদ সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, তুইতাে চিঠিতে লিখেছিলি আরাে পনের দিন আগে আসবি।
দুঃশ্চিন্তা
দেরি দেখে আমরা দুঃশ্চিন্তা করছিলাম। তাের খোঁজ নেয়ার জন্য আবসারকে দু'একদিনের মধ্যে ঢাকায় পাঠাব ভাবছিলাম।
পলি জানত তাকে এ প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। তাই আগের থেকে উত্তর ভেবে রেখেছে। বলল,
পরীক্ষা এগিয়ে আসছে তাই আমরা কয়েকজন বান্ধবী হলে থেকে এজন অধ্যাপকের কাছে টিউটোরিয়াল করছিলাম।
পরের দিন রাত্রে খাওয়ার-দাওয়ার পর পলি মাকে তার বিয়ের কথা বলে টাকাটার কথাও জানাল।
মেয়ের কথা শুনে আফসানা বেগম খুব অবাক হয়ে তার মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন।
তারপর আতঙ্কিত স্বরে বললেন, এ তুই কি বলছিস, আমি যে কিছুই বুঝতে পারছি না ?
পলি চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বলল, হ্যা মা, এটাই তােমাকে বুঝতে হবে এবং বাবাকেও বােঝাতে হবে।
আফসানা বেগম মেয়েকে কাঁদতে দেখে বললেন, তুই একবারও তাের বাবার ইজ্জতের দিকে তাকালি না।
ম্যাজিস্ট্রেট
সে কি এ বিয়ে মেনে নিতে পারবে ? রংপুরের ম্যাজিস্ট্রেট তাের বাবার বন্ধু ।
তার ছেলে বিলেত থেকে লেখাপড়া শেষ করে এ বছর ফেরার কথা। তার সঙ্গে তাের বিয়ের কথাবার্তা একদম ফাইন্যাল হয়ে আছে।
সব কিছু জেনে কি করে আমি তাকে তাের কথা জানাব ?
পলি কাঁদতে কাঁদতে বলল, এখন আর সে কথা বলে লাভ কি ?
তােমরা আমাকে এতদিন সে কথা জানাও নি কেন ?
আমার ভাগ্যে যা ছিল হয়েছে। তােমরা আমার ভাগ্যকে কি বদলাতে পারবে?
আফসানা বেগম কি করবেন ভেবে ঠিক করতে পারলেন না।
ঘুমাবার সময় স্ত্রীর থমথমে মুখের দিকে তাকিয়ে হামিদ সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার ?
তােমার কি শরীর খারাপ না, আমার কিছু হয় নি।
তােমাকে দেখে তাে তা মনে হচ্ছে না।
সঞ্চয়
আফসানা বেগম সাহস সঞ্চয় করে বললেন, তােমার মেয়ের খবর শুনলে তােমারও তাই হবে।
Part 10- পড়তে এখানে ক্লিক করুন
ভূমিকা : লিখতে গিয়ে যদি ভূল হয়ে থাকে তাহলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
এবং কোন সাজেশন এর প্রয়োজন হলে, আমাকে ইমেইল এর মধ্যেমে জানিয়ে দিবেন!
নতুন নতুন কাহিনী পেতে প্রতিদিন এই ওয়েবসাইট ভিজিট করুন,
সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ