ভালোবাসার গল্প
Bangla Sad Story
হামিদ সাহেব কপাল কুচকে বললেন, তার আবার কি খবর ?
ভালবাসা
তােমার মেয়ে ভালবাসা করে বিয়ে করেছে। ছেলেটার বাপের কি ব্যবসা ছিল।
সে মারা যেতে ছেলে সেই ব্যবসা চালাচ্ছে। ব্যবসার জন্যে তার লাখ খানেক টাকা দরকার।
বিশ্বাস
সেই জন্যে তােমার মেয়ে এসেছে। সে এসে যে কথা বলেছে তা মিথ্যে।
হামিদ সাহেব নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারলেন না।
হতবাক হয়ে চিন্তা করতে লাগলেন, আমার মেয়ে হয়ে এরকম কাজ করবে তাও কি সম্ভব ?
আবার চিন্তা করলেন, সে যখন নিজের মুখে বলেছে, তখন তাে বিশ্বাস করতেই হয়।
তারপর খুব রাগের সঙ্গে বললেন, এ বিয়ে আমি কখনাে মেনে নিতে পারব না। আমার মান ইজ্জৎ সব যাবে।
ম্যাজিস্ট্রেট
ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবকে আমি কোন মুখে একথা জানাব ?
ডাক তাকে, তার মুখে আমি শুনতে চাই।
দাঁড়িয়ে ভয়ে
আফসানা বেগম মেয়েকে ডেকে নিয়ে এলেন। পলি মায়ের সঙ্গে এসে জড়সড় হয়ে একপাশে দাঁড়িয়ে ভয়ে কাঁপতে লাগল।
হামিদ সাহেব গম্ভীর স্বরে বললেন, তাের মাকে যা বলেছিস তা কি সত্যি ?
পলি ভয়ে কথা বলতে পারল না। মাথা নিচু করে চুপ করে কাপতেই লাগল।
কাঁপা গলায়
কি হল কিছু বলছিস না কেন ?
পলি কোনাে রকমে কাঁপা গলায় বলল, জি, সত্যি।
হামিদ সাহেব হুংকার দিয়ে উঠলেন, স্বীকার করতে তাের লজ্জা করল না।
উচ্চ শিক্ষা
বড় আশা করে উচ্চ শিক্ষা নেয়ার জন্য তােকে ভার্সিটিতে ভর্তি করেছিলাম।
আর তুই কিনা এমন জঘন্য কাজ করলি ?
যার ফলে আমি কারাে কাছে মুখ দেখাতে পারব না। কোথাকার।
কেমন ছেলে, কার ছেলে, তা জানাবার দরকারও মনে কবলি না ?
বিয়ের পরপর স্ত্রীকে
যে ছেলে বিয়ের পরপর স্ত্রীকে টাকার জন্য তার বাবা-মার কাছে পাঠায়, সে কি ধরণের ছেলে আমার জানা আছে।
তাের যদি বুদ্ধি থাকত, তা হলে বুঝতে পারতিস, আমাদের সব কিছু জেনে তােকে টাকা কামাবার টোপ হিসাবে ব্যবহার করবে বলে বিয়ে করেছে।
তুই না বুঝতে পারলেও আমি পেরেছি। তারপর স্বর নামিয়ে বললেন, খুব ভুল করে ফেলেছি, মা ।
ডিভাের্সের জন্য
যাক যা হবার হয়েছে; তাের আর ফিরে যাওয়ার দরকার নেই। আমি ডিভাের্সের জন্য উকিলি চিঠি পাঠিয়ে দিচ্ছি।
মনে হয় লাখ দু'য়েকের মধ্যে মিটমাট করে ফেলতে পারব।
বাবার স্বর নরম হতে দেখে পলি সাহস করে বলল, তা হয় না বাবা। আমি তােমার সঙ্গে একমত নই।
সে আর যাই হােক অত ছােট নয়।
হামিদ সাহেব মেয়ের কথা শুনে আবার রেগে গেলেন।
জ্ঞান
তবু সংযত হয়ে গম্ভীরস্বরে বললেন, তুই এত লেখাপড়া করলে কি হবে, মানুষ চেনার জ্ঞান তাের এখনও হয়নি।
আমি যা বললাম তাই হবে।
পলি দৃঢ় কণ্ঠে বলল, আমি তা মেনে নেব না।
যাকে ভালবেসে বিয়ে করেছি, তাকে বাদ দিয়ে অন্য ছেলেকে আবার বিয়ে করতে পারব না।
আত্মহত্যা
বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করবো, তবু তা পারব না।
হামিদ সাহেব এতক্ষণ অনেক ধৈৰ্য্য ধরে ছিলেন, এবার সীমার বাইরে চলে গেলেন।
চিৎকার করে বললেন, তা হলে তুই জাহান্নামে যা, আমি আর তাের মুখ দেখতে চাই না।
কাল যেন তাের ঐ মুখ আমি আর না দেখি। দূর হয়ে যা আমার সামনে থেকে। বিষ খেয়ে মর আর সেই ছােটলােকের ঘরে ফিরে যা,
তাতে আমার কিছু যায় আসে না। তােকে আমার মেয়ে ভাবতে ঘৃণা হচ্ছে।
এক্ষুনি বেরিয়ে যা আমার ঘর থেকে। আর কোনােদিন এ মুখাে হবি না ।
বাবার কথা শুনে পলির মনে প্রচণ্ড আঘাত লাগল। সে কাঁদতে কাঁদতে বলল, হ্যা, তাই চলে যাব বাবা।
আর কোনােদিন তােমাদের কাছে আসব না। কথা শেষ করে সে ছুটে বেরিয়ে নিজের রুমে ঢুকে দরজা খিল দিয়ে বিছানায় উপুড় হয়ে ফুলে ফুলে কাঁদতে লাগল।
আফসানা বেগম মেয়েকে বোঝাবার জন্য তার পিছনে যেতে উদ্দত হলে হামিদ সাহেব জোর গলায় বললেন, তুমি ওর কাছে যাবে না।
স্বামীর
গেলে তােমাকেও চিরকালের জন্য এ ঘর ত্যাগ করতে হবে।
আফসানা বেগম স্বামীর রাগ জানেন,
চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বললেন, মেয়েটা যদি কিছু অঘটন ঘটিয়ে ফেলে ?
হামিদ সাহেব বললেন, অঘটন যা ঘটাবার তা তাে ঘটিয়েই ফেলেছে, আবার কি ঘটাবে ?
চেয়ারম্যান
আফসানা বেগম আর কিছু না বলে বসে পড়লেন।
হামিদ সাহেব অনেক বছর ধরে ধলিবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।
আর্থিক অবস্থা খুব ভালাে। ওনার তিন ছেলে এক মেয়ে । তিন ছেলেই গ্রাজুয়েট।
বড় ছেলে আসার চাষবাস দেখাশােনা করে। বিরাট ইরি প্রজেক্ট আছে।
মেজ ছেলে মারুফ রংপুর টাউনে একটা পাঁচতলা আবাসিক হােটেল করে সেটা পরিচালনা করে।
আমেরিকায়
ছােট ছেলে সবুজ আমেরিকায় উচ্চ শিক্ষা নিতে গিয়েছিল । শিক্ষা শেষে চাকরি করতে করতে একজন আমেরিকান মেয়েকে বিয়ে করে সেখানেই থাকে।
পলি সকলের ছােট।
পলি সারা রাত কেঁদে কাটাল। অনেকবার চিন্তা করেছে,
গলায় ফাঁস দিয়ে। আত্মহত্যা করবে। পরক্ষণে ভেবেছে এখানে আত্মহত্যা করলে বাবাকে আরাে অপমানিত হতে হবে।
যদি একান্ত করতে হয়, ঢাকাতে গিয়েই করবে। ভােরে কেউ জাগার আগে সে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ল।
ঢাকায় আমিনদের বাসায় যখন পৌছাল তখন রাত আটটা। আমিন তখনও বাসায় ফিরে নি।
গুম
শায়লা বেগম বৌ-এর চেহারা দেখে যা বােঝার বুঝে গেলেন। আমিন অনেক রাত্রে ফিরে সব কিছু শুনে বেশ কিছুক্ষণ গুম হয়ে বসে রইল।
তারপর বলল,তােমার চলে আসা উচিত হয় নি। বাবা-মাকে না জানিয়ে বিয়ে করলে সব বাবা-মাই ঐ রকম....
ভূমিকা : লিখতে গিয়ে যদি ভূল হয়ে থাকে তাহলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
নতুন নতুন কাহিনী পেতে প্রতিদিন এই ওয়েবসাইট ভিজিট করুন,
সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ