বাস্তব জীবন কাহিনী
মধুর ভালোবাসা
করিম তাকে ছেড়ে দিয়ে ড্রেস চেঞ্জ করার সময় বলল, তােমার বুদ্ধির তারিফ করতে হয়।
লুংগি
পলি স্বামীকে লুংগি দিয়ে তার জামাকাপড় ব্যাকেটে রাখার সময় বলল, মনে কিছু করলে ? আসল প্রেম কাহিনী
করেছি। তবে তুমি যদি পালিয়ে যাওয়া সময়টা ধরে এনে আমার কাছে ধরা দাও, তা হলে মনে কিছু করব না।। ভালোবাসার গল্প
আপত্তি
হয়েছে হয়েছে, অত ন্যাকামু করতে হবে না। কখনাে ধরা দিতে আপত্তি করেছি ?
তা অবশ্য করনি, তবে এখন পেটে বাচ্চা তাে, তাই যদি শরীরে না কুলােয়।
তােমার কি মুখে কোন লাইসেন্স ট্যাক্স নেই ?
মওকুফ
একদিন ছিল। তােমাকে বিয়ে করার পর আল্লাহ সে সব মওকুফ করে দিয়েছেন।
আচ্ছা, কি লােক তুমি বল তাে ? কেন ?
দুষ্টুমী
পলির স্বামী, পলি স্বামীর কোমর জড়িয়ে বলল, আর দুষ্টুমী নয়, খেতে চল, দেরি হয়ে যাচ্ছে। অন্য রকম জীবনের গল্প
করিমও স্ত্রীর কোমর জড়িয়ে বলল, চল।।
সেরাতে আমিন পলিকে মারার পর পার্টিতে গিয়ে সাহেবকে মিথ্যে করে বলল, গতকাল থেকে আমার স্ত্রী খুব অসুস্থ তাই আসতে পারে নি।
আজিজ সাহেব শুনে খুব রেগে গেলেন। কিন্তু লােকজনের সামনে বাইরে তা প্রকাশ করলেন না।
বুঝতে পারলেন, মেয়েটা জেনেশুনে ইচ্ছা করে অসুস্থতার অজুহাত।
দেখিয়ে এল না।
ভেবে রাখলেন, দেখবাে কতদিন অজুহাত দেখিয়ে আমাকে ফাকি দিতে পারে।
আমিন মদে চুর হয়ে বাসায় ফিরল।।
শায়লা বেগম ছেলেকে কোনাে দিন মদ খেয়ে বাসায় ফিরতে দেখেন নি।
আজ দেখে খারাপ লাগলেও কিছু বললেন না। ভাবলেন, যাওয়ার সময় বৌটাকে মারধাের করে গেছে, মন খারাপ, তাই হয়তাে মদ খেয়ে এসেছে।
আমিন রুমে এসে নিজের খাটে ঘুমিয়ে পড়ল। তার তখন কোনাে দিকে খেয়াল করার মতাে অবস্থা ছিল না।
শায়লা বেগম বৌ যে চলে গেছে, সে কথা প্রথম জানতে পারেন নি। মনে করেছিলেন, মার খেয়ে হয়তাে রাগ করে ঘুমিয়ে পড়েছে।
খাওয়ার সময় কাজের মেয়েকে বললেন, আমিন আজ বাইরে খেয়ে আসবে। তুমি বৌমার ভাত তার ঘরে দিয়ে এসে।
কাজের মেয়ে ভাত নিয়ে গিয়ে পলিকে দেখতে না পেয়ে টেবিলের উপর চাপা দিয়ে রেখে এসে বলল, আপাকে তাে ঘরে দেখলাম না। বাস্তব কাহিনী
শায়লা বেগম চিন্তিত হয়ে ছেলের রুমে এসে দেখলেন, আজ বৌ যে শাড়িটা পরেছিল।
সেটা খাটের উপর জমা করা রয়েছে। ভাবলেন, তা হলে কি বাে চলে গেছে ?
দুর্ঘটনা
না কোনাে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে ?
তাড়াতাড়ি বাথরুম খুলে দেখলেন, নেই।
কাজের মেয়েকে সব বাথরুম খুলে দেখতে বললেন। ছােট ছেলেদের জিজ্ঞেস করলেন।
তারা বলল, আমরা জানি না। কাজের মেয়ে ফিরে এসে বলল, কোথাও নেই। শায়লা বেগম ভাবলেন, নিশ্চয় চলে গেছে।
আমিন ফিরলে তাকে কথাটা বলার জন্যে এত রাত জেগে ছিলেন। ছেলের অবস্থা দেখে আর বললেন না।
সকালে ঘুম থেকে জেগে আমিনের গত রাতের সব ঘটনা মনে পড়ল।
স্ত্রীর খাটের দিকে তাকিয়ে শাড়িটা দেখে মনে সন্দেহ হল।
তাড়াতাড়ি বিছানা ছেড়ে উঠে মাকে ডাকতে ডাকতে তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, তােমার বৌ কোথায় ?
শায়লা বেগম বললেন, তুই চলে যাওয়ার পর বৌ ঘরেই ছিল। তারপর আর বার হয় নি।
রাতে খাওয়ার সময় খোঁজ নিয়ে দেখি নেই। কত খোঁজাখুঁজি করলাম, পেলাম না, মনে হয় চলে গেছে।
আমিন ক্রুদ্ধ বাঘের মতাে গর্জন করে উঠল, তােমরা এতলােক থাকতে সে চলে গেল, তােমরা জানলে না ?
শায়লা বেগম বললেন, আমরা যে যার রুমে রয়েছি। কে কখন কোথায় যাচ্ছে, জানব কি করে ?
আমিন মাকে আর কিছু বলল না। নিজের রুমে আসার সময় গজ গজ করে বলল, যাবে কোথায় ?
যেখানেই যাক না কেন খুঁজে বের করবই। রুমে এসে বসে বেশ কিছুক্ষণ ভাবতে লাগল, কার কাছে যেতে পারে ?
পলিযে সত্যি সত্যি চলে যাবে, এটা সে ভাবতেই পারছে না।
এক এক করে তার বান্ধবীদের কথা মনে করতে লাগল। বাব- মার কাছে যে যাবে না, সে কথা নিশ্চিত।
পরিচয়
আর যদি গিয়েও থাকে, তা হলে তাে। খুব ভালই হবে। মাস খানে পরে গিয়ে পরিচয় দিয়ে তাদেরকে বলবে, আপনাদের।
মেয়ে রাগ করে চলে এসেছে। তাকে নিয়ে যেতে এসেছি।
আবার ভাবল, পলি যদি তার অত্যাচারের কথা বাবা-মা ও ভাইয়েদেরকে বলে দেয়, তা হলে তাে বিপদ ?
কিন্তু না বলে তাে পলিকে হাতছাড়া করা চলবে না।
যেখানেই যাক না কেন ছলচাতরি করে লকে চেয়ে বুঝিয়ে সুজিয়ে আনতেই হবে।
নচেৎ ব্যবসারও যেমন ক্ষতি হবে তেমনি ভবিষ্যতে তার বাবা ও ভাইদের কাছ থেকে কিছুই আদায় করতে পারবে না।
কাল
বটা একটু বেশি হয়ে গিয়েছিল। তাই হয়তাে রাগ করে কোনাে বান্ধবীর বাসায় চলে গেছে।
দু'চার দিন পর রাগ পড়লে ফিরে আসবে। কিন্তু এক এক করে চার-পাঁচ মাস পরেও যখন ঝর্ণা ফিরল না ।
তখন আমিন একজন লােককে তাদের দেশের বাড়িতে পাঠিয়ে খবর নিল সেখানে যায় নি।
তারপর পলির বান্ধবীদের অনেকের কাছে খোজ নিয়ে কোনাে খবর পেল না।
শেষে মাস ছয়েক পরে উকিলের ডির্ভোসের চিঠি পেয়ে বুঝল, সে ঢাকাতেই আছে।
ডিভাের্সের দিন কোর্টে আমিন পলির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করল। কিন্তু সফল হতে পারল না ।
কোর্ট থেকে ফিরে সে দু’টো গুণ্ডার সঙ্গে কন্ট্যাক্ট করল পলিকে কিডন্যাপ করে নিয়ে আসার জন্য।
গুণ্ডারা খোজ নিয়ে দেখল, খুব জাদরেল লােকের আশ্রয়ে পলি থাকে।
আমিন গুণ্ডা দ’টোকে পলির ফটো দিয়েছিল। পলি বাইরে বেরােবার সময় বােরখা পরে বের হয়।
সেই জন্যে তারা পলিকে চিনতে পারে না।
বছর খানেক পর আমিন জানতে পারল, পলি যাকে কামলার ছেলে বলে ঘৃণা করতাে, সে এখন বড় ব্যবসায়ী এবং পলি তাকেই বিয়ে করেছে।
জানার পর তার মাথা গরম হয়ে গেল। গুণ্ডাদেরকে করিমের বাসার ঠিকানা দিয়ে বলল ।
করিমকে মার্ডার করে হলেও তােমরা পলিকে আমার কাছে এনে দাও।
তাতে যদি তােমাদের সঙ্গে যা কন্ট্যাক্ট হয়েছে তার দ্বিগুণ টাকা লাগে দেব।।
গুণ্ডারা উঠে পড়ে লাগল । কিন্তু তারা শত চেষ্টা করেও সুযােগ সুবিধে করে উঠতে পারল না।
কিডন্যাপ
তবু তারা হতাশ না হয়ে সুযােগের অপেক্ষায় রইল, পলিকে কিডন্যাপ করার জন্য |
আমিন গুণ্ডাদের কাছ থেকে সব খবর রাখছে। নিজেও লােক দিয়ে করিমের অফিস থেকে তাদের অবস্থানের খবর নিয়ে গুণ্ডাদের জানাচ্ছে।
বিদেশ থেকে ফেরার পর করিম । অফিসে আজ পার্টি দিচ্ছে জানতে পেরে আমিন গুণ্ডাদের সেই কথা জানাল।
গুণ্ডারা সারাদিন করিমের বাসার দিকে লক্ষ্য রাখল। করিম পার্টি থেকে ফেরার পর তারা গেটে এসে ছল চাতুরী করে দারােয়ানকে গেট খােলাল।
ঢুকেই একজন। দারােয়ানের কানের গােড়ায় জুড়াের চাপ মেরে অজ্ঞান করে ফেলল।
তারপর প্যান্টের। পকেট থেকে লাইলনের রশি বের করে হাত-পা বেঁধে গেটের আড়ালে শুইয়ে রাখল।
তার মুখটা একটা বড় রুমাল দিয়ে বাধতে ভুলল না। দারােয়ানকে রেখে তারা। বারান্দায় এসে কলিং বেলে চাপ দিল।
একজন বয়স্ক চাকর একটু আগে সাহেবকে দরজা খুলে দিয়েছে। সাহেব ঢােকার পর।
দরজা বন্ধ করে নিজের রুমে এসে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে গেল। সে দরজার পাশের রুমে থাকে ।
তার কাজই হল, দরজা খােলা এবং বন্ধ করা। সেই জন্যে সে সাহেবের অপেক্ষায়। জেগে বসে ছিল।
আবার বেল বাজতে শুনে বিরক্ত হয়ে ভাবল, এতরাতে আবার কে এল ?
যেই সে দরজা খুলেছে অমনি গুণ্ডা দুটো একসঙ্গে তাকে আক্রমণ করে অজ্ঞান করে দারােয়ানের মতাে বেধে ফেলল।
তারপর তাকে তার রুমে বন্ধ করে ভিতর বারান্দায় দুটো থামের আড়ালে দু’জনে আত্মগােপন করে সুযােগের অপেক্ষায় রইল।
পলি ও করিম যখন কোমর ধরাধরি করে রুম থেকে বেরিয়ে বারান্দা দিয়ে ডাইনিং রুমের দিকে যাচ্ছিল ।
তখন গুণ্ডাদের একজন থামের আড়াল থেকে বেরিয়ে তাদের দিকে পিস্তল তাক করে বলল, হান্ডস আপ।
করিম কংফু মাস্টার ছিল। বিপদের সময় কি করা উচিত তার জানা। পিছন দিক থেকে কথাটা শুনেছে।
পলিকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিচ্ছে প করে ঘুরে গুণ্ডাটাকে দেখে সেখান থেকে জাম্প করে উড়ে এসে তার উপর পড়ল ।
গুণ্ডাটার চোখে ধা ধা লেগে গেল ।
তার মনে হল ভেল্কী দেখছে। ঘাের কাটিয়ে ওঠার আগেই করিম তার উপর পড়তে দু’জনে মেঝেয় পড়ে গের।
পিসতলটা গুণ্ডাটার হাত থেকে ছিটকে পড়ে দেয়ালের কাছে চলে গেল।
করিম তার গর্দানে কয়েকটা চাপ মারতে সে জ্ঞান হারাল।
অন্য গুণ্ডাটা থামের আড়াল থেকে দেখে তার চোখেও ভেল্কী বলে মনে হয়েছিল।
সাথির অবস্থা দেখে সে সাবধান হয়ে গেল। তাড়াতাড়ি থামের আড়াল থেকে বেরিয়ে পলির একটা হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে করতে করিমের দিকে পিস্তল তাক করে বলল ।
খবরদার, আর একচুল নড়বেন না, নচেৎ গুলি করতে বাধ্য হব। তারপর পলিকে বলল ।
আপনার স্বামীকে যদি বাচাতে চান, তা হলে চলুন আমার সঙ্গে।।
পলি তখন ভয়ে থর থর করে কাঁপছে। সে করিমের দিকে তাকিয়ে কি করবে না করবে ভাবতে লাগল।
গুণ্ডাটা অধৈর্য স্বরে বলল, কুইক।
দেরি দেখে মনিরা কাজের মেয়েটাকে করিম ও পলিকে ডাকতে পাঠিয়েছিল ।
সে বারান্দায় এসে ঐরকম ঘটনা দেখে প্রথমে খুব ভয় পেয়ে থতমত খেয়ে যায়।
তারপর দৌড়ে ফিরে গিয়ে ব্যাপারটা মনিরাকে জানাল।
শুনে নাজনীন বলল, আম্মা তাড়াতাড়ি থানায় ফোন করে দাও, আমি ওদিকে দেখছি।
কথা শেষ করে নাজনীন যখন বারান্দার দরজার পর্দা ফাক করে উঁকি মারল,
তখন গুণ্ডাটা পলিকে তাগিদ দিয়ে বলছে, আমার সঙ্গে না গেলে আপনার স্বামীকে কুকুরের মত গুলি করে মারব।
পলি করিমের চোখের দিকে তাকিয়েছিল। বুঝতে পারল, সে তাকে ইশারা করে যেতে বলছে।
পলি ধীরে ধীরে পা পা করে এগােচ্ছে, এমন সময় নাজনীনকে মেঝেয় দেওয়ালের কাছে পড়ে থাকা।
পিস্তলটার দিকে এগিয়ে যেতে দেখে করিম বলল নাজ তুই তাের হাতের লাঠিটা দিয়ে গুণ্ডাটার মাথায় খুব জোরে আঘাত কর।।
গুণ্ডাটার পিছনের দিকে থেকে নাজনীন আসছিল।
সেদিক তাকিয়ে করিমকে কথা বলতে শুনে সত্য-মিথ্যা দেখার জন্য গুণ্ডাটা একবার মুখ ঘুরিয়ে দেখতে গেল।
করিম এই সুযােগের অপেক্ষায় ছিল। জাম্প করে উড়ে তার কাছে আসতে চাইল ।
কিন্তু এই গুণ্ডাটা আগেরটার চেয়ে বেশি চালাক।
পিছনে এক মুহুর্তের জন্য তাকিয়ে মুখ ফিরিয়ে করিমকে উড়ে আসতে দেখে পরপর তিনটে গুলি করল।
প্রথম
দুটো মিস হলেও শেষেরটা করিমের পেটে লাগল।
ততক্ষণে করিম তার ঘাড়ের উপর এসে পড়ে পিস্তলটা কেড়ে নিয়ে নাজনীনের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে বলল, থানায় জলদি ফোন করে দে।
তারপর গুটার কানের নীচে ও তলপেটে কয়েকটা ঘুষি মেরে অজ্ঞান করে ফেলল।
তখন সাইফুলের রক্তে জামা কাপড় ভিজে মেঝেয় গড়িয়ে পড়ছে।
গুণ্ডাটা অজ্ঞান হয়ে যেতে বসে পড়ে একহাতে পেট ধরে একটা চাকরকে দেখতে পেয়ে বলল, রশি দিয়ে এদের হাত-পা শক্ত করে বেঁধে ফেল।
পলি এতক্ষণ ঘােরের মধ্যে ছিল। স্বামীর রক্ত দেখে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে বলল, আল্লাহ গাে একি হল ?
তুমি রহম কর। তারপর নাজনীনকে বলল, জলদি ড্রাইভারকে গাড়ি বের করতে বল, এক্ষুনি মেডিকেল নিয়ে যেতে হবে।
নাজনীন ছুটে বেরিয়ে গেল ড্রাইভারকে গাড়ি বের করার কথা বলতে।
মনিরা থানায় ফোন করে এসে করিমের রক্ত দেখে সেও তাকে জড়িয়ে ধরে।
কাঁদতে কাঁদতে বলল, কই দেখি কোথায় গুলি লেগেছে ?
করিম গুলি খাওয়া জায়গাটা দু'হাত দিয়ে চেপে ধরে রেখেছে, তবু রক্ত গল গল করে বেরােচ্ছে।
সে ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে আসতে লাগল। হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, বুবু, পলিকে তােমার হাতে তুলে দিচ্ছি, ওর পেটে বাচ্চা আছে, ওদেরকে তুমি দেখাে।
তারপর উপরের দিকে তাকিয়ে বলল, আল্লাহপাক, তােমার ইশারা ছাড়া কোন কিছু হয়।
তুমি আমাকে ক্ষমা করাে। এদের সবাইকে হেফাজত করাে।
পলি স্বামীকে বুকে করে ধরে রেখে বলল, কথা বলতে তােমার কষ্ট হচ্ছে, তুমি এবার চুপ কর।
প্রিয়তমা
করিম পলির গালে গাল ঠেকিয়ে বলল, প্রিয়তমা আমার, তােমাকে নিয়ে বেশি দিন ঘর সংসার করা আমার ভাগ্যে নেই।
তাই আল্লাহ আমার সমস্ত কামনা বাসনা পূরণ করে দুনিয়া থেকে তুলে নিচ্ছেন।
পলিকে কাঁদতে দেখে বলল, কাদছ কেন ?
তার ইচ্ছায় চলে যেতে হচ্ছে। আল্লাহর কাছে ধৈর্য ধরার ক্ষমতা চাও।
এবার কান্না থামিয়ে আমাকে বিদায় দাও প্রিয়তমা। পলি ভুলে গেল এখানে বড় ননদ, নাজনীন ও চাকর-চাকরানীরা রয়েছে।
সে স্বামীর মাথা দু'হাত দিয়ে ধরে তার সারা মুখে চুমাে খেয়ে বলল, বিদায় তােমাকে আমি নিতে দেব না।
ড্রাইভার
যেমন করে থােক ইনশাআল্লাহ বাচাবই। তারপর নাজনীনকে দেখে। বলল, ড্রাইভার এখনও গাড়ি বার করে নি ?
ড্রাইভার গাড়ি বের করে সাহেবকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঘরে ঢুকে পলির কথা। শুনতে পেয়ে বলল, তাড়াতাড়ি চলুন।
করিম টেনে টেনে বলল, শুধু শুধু তােমরা আমাকে মেডিকেলে নিয়ে যাচ্ছ। তারপর পলিকে বলর, খুব পিয়াস লেগেছে, পানি দাও।।
নাজনীন শুনতে পেয়ে তাড়াতাড়ি এক গ্লাস পানি নিয়ে এল।
পলি গ্লাসটা স্বামীর মুখে ধরতে করিম বিসমিল্লাহ বলে খেয়ে আলহামদুলিলা বলে জ্ঞান হারাল।
করিমকে চুপ করে যেতে দেখে সবাই মিলে ধরাধরি করে গাড়িতে ত মেডিকেলে রওয়ানা দিল।
চাকর-চাকরানী ছাড়া সবাই মেডিকেলে গেল। যাওয়ার সময় মনিরা চাকরদের বলল,
পুলিশ এলে তাদেরকে ঘটনাটা বলে এদেরকে নিয়ে যেতে বলবে।
মেডিকেল
মেডিকেল আসার পর ডাক্তারা করিমকে পরীক্ষা করে বলল, হি ইজ ডেড ।। বাস্তব জীবনের গল্প
শুনে মনিরা ও নাজনীন হাউমাউ করে কেঁদে উঠল।
আর পলি প্রথমে কয়েক সেকেণ্ড থ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল তারপর না ..... বলে স্বামীর বুকের উপর আছড়ে পড়ে জ্ঞান হারাল।
ভূমিকা : লিখতে গিয়ে যদি ভূল হয়ে থাকে তাহলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
নতুন নতুন কাহিনী পেতে প্রতিদিন এই ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।
ভালো লাগলে শেয়ার করবেন,
সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ