আসল প্রেম কাহিনী Part 2- ভালোবাসার গল্প - Love History

ভালোবাসার গল্প

ভালোবাসার কাহিনী,বাংলা নতুন গল্প,hot Girls picture

নতুন স্কুল জীবনের গল্প

ওয়ান থেকে পড়ে আসছে। আর করিম গরিবের ছেলে বলে সরকারি ফি প্রাইমারী স্কুলে পড়েছে।

তাই সে পলিকে চিনত না। Love Story

পলিও নিচের ক্লাস থেকে ফাষ্ট হয়ে এসেছে।


সে বছর সিক্স থেকে সেভেনে ওঠার সময় করিম ফাস্ট আর পলি সেকেণ্ড হয়। রেজাল্টের দিন সেকেণ্ড হয়েছে জেনে পলি কেঁদেছিল।


আর সেই সঙ্গে করিমের প্রতি তার খুব রাগ হয়েছিল, আর মনে মনে ভেবেছিল।

Read more: Sad Love History

সামনের বছর সাইফুল কেমন করে ফাস্ট হয় দেখবে। কিন্তু সে বাসনা আজ পর্যন্ত পূরণ হয়নি।


ফলে করিমের প্রতি রাগ ও ঘৃণা বছরের পর বছর বাড়তেই থাকে। কোনাে কোনাে সময় করিম তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে।


প্রেম কাহিনী

পলি মুখ ঘুরিয়ে চলে যায়। এখন তারা ক্লাস টেনে পড়ে।


গত সপ্তাহে যেদিন টেস্টের রেজাল্ট বেরােল, সেদিন পলি প্রথম করিমের সঙ্গে কথা বলে।


ঐ দিন রেজাল্ট জানার জন্য করিম স্কুলে গিয়ে দেখল, পলি নােটিশ বাের্ডের কাছে কয়েকজন মেয়ের সাথে কথা বলছে।


করিমকে দেখে পলি বিদ্রুপের হাসি হেসে বলল,

তুমি আবার এসেছ কেন ?

ভালাে ছাত্রদের রেজাল্ট তাে জানাই থাকে।


পলির বিদ্রুপের হাসি করিম বুঝতে পেরেও গায়ে মাখল না। যেচে কথা বলেছে।


এটাই তার কাছে সৌভাগ্য বলে মনে হল। সেও হাসিমুখে বলল, ভালাে ছাত্ররাও অনেক সময় ফেল করে। 


তা ছাড়া তুমিও তাে ঐ দলের ; তবে তুমি কেন এসেছ ?


করিম কে হেসে কথা বলতে দেখে পলি মুখ ঘুরিয়ে সঙ্গিদের নিয়ে চলে গেল।


পলির সঙ্গে কথা বলার পর করিমের বেপরােয়া ভাবটা মাথা চাড়া দিয়ে উঠে।


বাংলা ইমোশনাল কাহিনী 

তাই ভালাে-মন্দ না ভেবে সে আজ তাকে চিঠি দেয়। স্কুলের পাশ দিয়ে একটা রাস্তা উত্তর-দক্ষিণে গেছে। 


পলিদের ঘর উত্তর দিকের গ্রামের রাস্তার শেষ প্রান্তে। আর করিমদের ঘর দক্ষিণ দিকের গ্রামের শেষ প্রান্তে।


স্কুলে আসার আগে করিম চিঠিটা লিখে এনেছিল। ভেবেছিল, কোনাে এক ফাকে পলিকে দেবে।


কিন্তু সে সুযােগ পেল । তাই ছুটির সময় করিম আগে ক্লাস থেকে বেরিয়ে পলিদের বাড়ির রাস্তায় কিছু দূরে এসে একটা বড় আমগাছের আড়ালে দাঁড়াল।


সৌভাগ্যক্রমে রাস্তায় তখন কোনাে লােকজন ছিল না। একটু পরে পলিকে তাদেরই ক্লাসের রিতু নামে একটা মেয়ের সঙ্গে আসতে দেখল।


কাছে এলে করিম আমগাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে চিঠিটা তার হাতে একদম গুঁজে দিল।


প্রেমের চিঠি

পলি ভাবতেই পারেনি, করিম তাকে চিঠি দেবে। প্রথমে ভ্যাবাচ্যাখা খেয়ে গিয়েছিল।


পরক্ষণে যখন রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে বলল,

এটাতে কি লিখেছ ?


তখন করিম ঐ কথা বলে নিজের বাড়ির দিকে হাঁটা দেয় ।


নামায 

মাগরিবের নামায পড়ে ঘরে এসে করিম পড়তে বসে কিছুতেই পড়ায় মন বসাতে পারল না।


কেবল পলির কথা মনে পড়তে লাগল।

পরের দিন স্কুলে এসে কয়েকবার আড়চোখে পলির দিকে তাকিয়ে তার মনের ভাব কিছু বুঝতে পারল না।


প্রথম ক্লাস হেডমাস্টার তাহের সাহেবের। তিনি ক্লাস টেনের এই সেকশনে অংক করান।


আজ ক্লাসে এসে রােল কল শেষ করে করিমের কাছে অংকের বই চাইলেন।


করিম বইটা দেয়ার আগে পলি এসে একটা চিঠি স্যারের টেবিলের উপর রেখে আস্তে আস্তে বলল।


গতকাল করিম আমাকে দিয়েছে। তারপর ফিরে এসে নিজের সিটে বসে পড়ল।


মল্লিক সাহেব সেটা পড়ে অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে একবার পলির দিকে তাকিয়ে করিমর দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।


পলিকে হেডস্যারের কাছে চিঠিটা দিতে দেখে করিমের হৃৎকম্পন শুরু হল।


তারপর স্যারকে ঐ ভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে ভয়ে তার মুখ বিবর্ণ হয়ে গেল।


সে অংকের বইটা দেয়ার জন্য বইটা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, সেই অবস্থায় সে মাথা নিচু করে রইল।


স্কুলের সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকা জানে, হেডস্যার মল্লিক সাহেব যেমন খুব ভালাে শিক্ষক তেমনি অত্যন্ত আদর্শবান। 


কোনাে অন্যায়কে তিনি প্রশ্রয় দেন না, তা সে যেই হােক না কেন ?

পলি যখন চিঠিটা স্যারকে দেয় তখন ক্লাসের সব ছেলেমেয়ে সেদিকে চেয়েছিল।


সবাই জানে হেডস্যার হঠাৎ রাগেন না।

কিন্তু কোনাে কারণে রেগে গেলে তখন আর ওনাকে চেনা যায় না।


Sad love history

ফর্সা গােলগাল মুখটা রাগে লাল হয়ে যায়। চিঠি পড়ে স্যারকে করিমের দিকে ঐভাবে তকিয়ে থাকতে দেখে তারা ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়ল। 


সবাই ফিস ফিস করে বলাবলি করতে লাগল, আজ করিমের নিস্তার নেই।


ছাত্র-ছাত্রীদের গুঞ্জন শুনে মল্লিক সাহেব টেবিলে ডাষ্টার ঠুকে গর্জে উঠলেন, চুপ কর।


স্যারের কথা শুনে ছেলেমেয়েরা সব চুপ হয়ে গেল । মল্লিক সাহেবের হাতে সব সময় একটা বেতের চাবুক থাকে।


স্কুলে যতক্ষণ যেখানেই থাকেন, বেতটা সঙ্গে থাকবেই। অবশ্য কেউ গুরুতর অন্যায় না করলে কাউকে কখনাে বেত্রাঘাত করেন না। 


ছােটখাট অন্যায় কেউ করলে বেত নাচিয়ে ভয় দেখিয়ে বুঝিয়ে তাকে সাবধান করে দেন।


তিনি চিন্তা করতেই পারছেন না, করিমের মতাে ছেলে এই কাজ করবে।


গম্ভীরস্বরে ডাকলেন, করিম, এদিকে এসো।

হেডস্যারের এই স্বর সকলের জানা। তারা ভাবল, আজ করিমের রক্ষা নেই।


যারা করিমকে দেখতে পারত না, তারা মনে মনে খুব খুশী হল। আর অন্যরা ভয়ে আল্লাহ।


আল্লাহ করতে লাগল । করিমও বুঝতে পেরেছে এখন কি ঘটবে।


তাই সে স্যারের ডাক শুনে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে টেবিলের কাছে এসে দাঁড়াল।


চিঠিতে করিমের নাম নেই, তাহের সাহেব করিমের হাতের লেখা চেনেন।

এবং পলিও তার নাম বলেছে।


তবু সত্য মিথ্যা যাচাই করার জন্য জিজ্ঞেস করলেন, এটা তােমার লেখা ?


করিম ভয়ে ও লজ্জায় কিছু বলতে পারল না। মাথা নিচু করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।


মল্লিক সাহেব একই স্বরে বললেন চুপ করে দাঁড়িয়ে আছ কেন ?


উত্তর দাও। করিম ঢােক গিলে কোনাে রকমে বলল, জি।


তাহের সাহেব দাঁড়িয়ে সারা শরীরে বেতের পর বেত মেরে চললেন।


করিম ঠোটে ঠোট কামড়ে নিজেকে সামলানর আপ্রাণ চেষ্টা করল, মুখ দিয়ে কোনাে শব্দ বের হল না।


শুধু চোখ দিয়ে অবিরল পানি পড়ছে। এক সময় তার মনে হল সে বুঝি অজ্ঞান হয়ে যাবে।


মারতে মারতে মল্লিক সাহেব ক্লান্ত হয়ে মারা বন্ধ করে হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন, যাও, বস গিয়ে।


আর কখনাে এরকম ঘটনা যেন না শুনি। করিম কোনােরকমে টলতে টলতে নিজের সিটে এসে বসে পড়ল।


মল্লিক সাহেব ছেলেদের জিজ্ঞেস করে দু'তিনটে হােম টাক্সের কঠিন অংক বাের্ডে করে বুঝিয়ে দিলেন।


তারপর ঘন্টা পড়তে হােমটাক্স দিয়ে তিনি ছাত্র হাজিরা খাতা, ডাষ্টার, চক, বেত ও চিঠিটা নিয়ে বেরিয়ে গেলেন।


হেডস্যার চলে যাওয়ার পর ক্লাসের মধ্যে আবার গুঞ্জন উঠল, ছেলেরা মেয়েদের দিকে বাঁকা চোখে তাকাতে তাকাতে রাগে ফুলতে লাগল। 


মেয়েদের মধ্যে যারা চিঠির কথা জেনেছিল, তারা বলল, ঠিক হয়েছে। 


আর অন্যরা পলির কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, করিম তােকে কি এমন লিখেছিল।


যার জন্য হেডস্যারকে দিয়ে মার খাওয়ালী ?


পলি মুখ ঝামটা দিয়ে বলল, যা লিখেছে তা যদি তােদেরকে লিখতাে, তা হলে তােরাও আমার মতাে তাই করতি।


গতকাল পলি স্কুল থেকে ঘরে ফেরার সময় যখন তেমাথা রাস্তায় এল তখন করিম এই চিঠিটা তাকে দেয়।


পলির একবার মনে হয়েছিল, চিঠিটা ছুঁড়ে ফেলে দেবে। কিন্তু করিমের কথা শুনে কি লিখেছে জানার আগ্রহে তা না করে শুধু একবার তার দিকে অগ্নি দৃষ্টি হেনে চলে আসে।


নিজের রুমে এসে চিঠিটা খুলে দেখতে পেল, পুরাে চিঠিটাতে শুধু “পলি আই লাভ ইউ" লেখা । পড়ে তার মাথা গরম হয়ে গেল।


চাচাতাে বােন রিতু রাস্তায় পলিকে বলেছিল, কিরে চিঠিতে করিম কি লিখেছে পড়বি ?


পলি তখন বলেছে, ঘরে গিয়ে পড়ব। তুইও আমার সঙ্গে চল, এখন তার হাতে চিঠিটা দিয়ে বলল, 


পড়ে দেখ, ফকিরের ছেলের সাহস কত ?

যার গায়ে তালি দেয়া ময়লা জামাকাপড় দেখলে বােঝা যায় তার বাপের অবস্থা।


সে কি না আমাকে ভালবাসে, তারপর বলল, কি করা যায় বলতাে ?


New Bangla sad story 

চিঠিটা আব্বাকে দিয়ে ছেলেটাকে শায়েস্তা করতে বলবাে ?

রিতি বলল, তার চেয়ে হেডস্যারকে দিলে আরাে ভালাে হবে।


গরিবের ঘােড়া রােগে ধরেছে, তুই হেডস্যারকেই দে। বাছাধনকে একদম প্রেমের ঘােল খাইয়ে। ছাড়বেন।


পলি স্কুলে আসার পর থেকে চিন্তা করেছে, কখন চিঠিটা স্যারকে দেয়া যায় ।


রােল কলের পর দেবে ভেবে রেখেছিল। তাই স্যার যখন করিমের কাছে অংকের বই।


চাইলেন তখন সে তার আগে চিঠিটা দিয়েছে। হেডস্যার যখন করিমকে মারতে ছিলেন তখন ঝর্ণা তার করুন অবস্থা দেখে মনে মনে হেসেছে আর বলেছে।


নতুন প্রেমের গল্প

এখন বুঝে বড় লােকের মেয়েকে ভালবাসার ফল,

ক্লাসের সব ছেলেমেয়েরা বুঝতে পারল।


করিম নিশ্চয় পলিকে প্রেম পত্র দিয়েছিল। তবু কয়েকজন ছেলে তাকে জিজ্ঞেস করল।


পলিকে চিঠিতে কি লিখেছিলি ?

করিম তাদের কথায় কান না দিয়ে বই খাতা নিয়ে বাড়ি চলে গেল ?


করিমের আব্বা ওসমান ক্ষেতের কাজ সেরে স্কুলের সামনের রাস্তা দিয়ে ঘরে ফিরছিল।


মােরসেদ তাকে দেখতে পেয়ে কাছে গিয়ে বলল, ওসমান চাচা, করিম পলিকে চিঠি দিয়েছিল বলে হেডস্যার তাকে ভীষণ মেরেছেন।


ওসমান জিজ্ঞেস করল, করিম কোথায় ?


মােরসেদ বলল, মার খাওয়ার পর সে ঘরে চলে গেছে।


ওসমান তাকে আর কিছু না বলে ঘরের দিকে চলে গেল । মােরসেদ করিমের বন্ধু, একই পাড়ায় ঘর ।

৩য় পাটে পড়ুন... 


ভূমিকা : লিখতে গিয়ে যদি ভূল হয়ে থাকে তাহলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।


এবং কোন সাজেশন এর প্রয়োজন হলে, আমাকে ইমেইল এর মধ্যেমে জানিয়ে দিবেন!

নতুন নতুন কাহিনী পেতে প্রতিদিন এই ওয়েবসাইট ভিজিট করুন,

সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ



Please Don’t sent Any Spam Link

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post